
প্রাইম নারায়ণগঞ্জ:
সংস্কারের অভাবে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কটি খানা-খন্দে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কের কার্পেটিং ও ইট উঠে বেশ কয়েকটি স্থানে বিশালাকার গর্ত তৈরি হয়েছে। এতে এসব সড়কে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। তবে, ভোগান্তি কমাতে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হবে কিনা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জানা যায়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কটি সড়ক ও জনপথের (সওজ) আওতাধীন। নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রীবাহী বাস এ পথে যাতায়াত করে। এছাড়া প্রতিদিন শত শত মালবাহী ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান ও রিক্সা-অটোরিক্সা-প্রাইভেটকার চলাচল করে। চাষাড়া থেকে পঞ্চবটি মোড় পর্যন্ত এক কিলোমিটার সড়ক অনেকটা মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। সড়কটির শামসুজ্জোহা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের সামনে ও পঞ্চবটির মোড়েসহ বেশ কিছু স্থানে খানা-খন্দ ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের এ অংশগুলোতে কমপক্ষে ৩০-৪০টি গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৩ নং ওয়ার্ডের মাঝখান দিয়ে অতিবাহিত হওয়া ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের শামসুজ্জোহা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের সামনে সড়কের বিটুমিন ও ইট উঠে গিয়ে খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। দেখা যায়, দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে এখানে সড়কের কার্পেটিং ও ইট উঠে বিশাল গর্ত। প্রতিনিয়তই বাড়ছে দুর্ঘটনা।
এ সড়কটির বেহাল অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নিতে গেলে এক দুপুরে কথা হয় চালক ও স্থানীয়দের সাথে। চালক ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে সরেজমিনে গিয়ে সড়কের বেহাল দশার চিত্র পাওয়া যায়।
রিকশা চালাতে গিয়ে শরীরের ১২টা বেজে যাচ্ছে বলে অনেকটা মলিন সুরে রিকশাচালক মো. আব্দুর রশিদ বলেন, এ সড়কটি দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে নৌকার ঢেউয়ের মতো কোমর দুলতে থাকে, মাজা ব্যাথা হয়ে যায়। এতে রিকশার যন্ত্রপাতি দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় বলে জানান তিনি। এছাড়া মাঝে মাঝেই রিক্সাসহ বিভিন্ন যানবাহনও উল্টে যায় বলে জানায় তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ এ সড়কটি বেহাল দশায় পড়ে থাকলেও গত বেশ কয়েক বছর ধরে এ সড়কে কোনো কাজ করা হয়নি। যে কারণে ওই সড়ক দিয়ে যান চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে।
স্থানীয় অনেকেই প্রায় অভিন্ন সুরে বলেন, শামসুজ্জোহা ষ্টেডিয়ামের সামনে সড়কটি খুবই খারাপ অবস্থায় আছে। কথা টেনে নিয়ে আরেকজন বলেন, সড়কের অনেক জায়গায়ই বড় বড় গর্ত হয়ে আছে।’
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ বলেন, এটি সড়ক ও জনপথের আওতাধীন। ১৩ নং ওয়ার্ডের অন্য সমস্যা খুঁজো। সড়কটি সংস্কারের জন্য কোনো উদ্যোগ নিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা আবেদন করেছি। প্রতি বছরে বছরে ভাঙ্গে, কতবার ঠিক করবে।
জেলা সড়ক ও জনপথের সহকারী প্রকৌশলী মু. তারিক হোসেন বলেন, এ সড়কটি আমাদের আওতায় পড়ে না, ঢাকা ডিভিশনের মধ্যে পড়েছে।
ঢাকা সড়ক ও জনপথের সহকারী প্রকৌশলী আলমগীর রেজাউল করিম বলেন, আমি একটি নাম্বার দিচ্ছি ঐ নাম্বারে যোগাযোগ করুন। কিন্তু তারপর তিনি আর কোনো যোগাযোগ করেন নি। এরপর বেশ কয়েকবার তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেন নি।
No posts found.